এক যুগের রাত, আরেক যুগের সকাল

১।
আজকাল রাহুলের ওর ঠাকুমার পাশে দু-দণ্ড বসা, একটু আধটু কথা বলা, এসবের সময় হয় না। ভীষণ ব্যস্ততা। একদিকে, পরীক্ষার চিন্তা, তারপর পরবর্তী জীবনে কি করবে সেই নিয়ে মাথাব্যাথা। ওদিকে, অদিতি - সেও কখনো কখনো আশ্চর্য আচরণ করে! বেচারা রাহুল, নিত্যদিনের নিত্য কাজের ভারে কাহিল। ঠাকুমাকে ঠামা বলে ডাকে। মা, বাবা, ঠামা – এই নিয়েই ওর জীবন। হ্যাঁ, অদিতিও আছে, খুব মিষ্টি মেয়ে, তবে একটু খামখেয়ালী।
আসলে, অদিতি অন্যায় মেনে নিতে পারে না। ভেদ-বিভেদ সহ্য করতে পারে না, মানে ওই, ধর্ম, জাত, বর্ণ, গায়ের রং, এইসব। এখন সমস্যা হল, আজকের দুনিয়ায় এগুলোই তো ফ্রন্ট পেজে। সমাজ আর দেশকে ভালোবাসার একটাই ক্রাইটেরিয়া – একটা দুশমন তৈরি কর, আর তাকে সকাল-বিকেল ঘৃণা কর। রাহুল অদিতিকে বোঝে, ওর সব কথা মন দিয়ে শোনে, মেনেও নেয়। সব কথার মধ্যে যুক্তি থাকে, অনেক কিছু শেখা যায়।
সেই স্কুল লাইফে আলাপ। রাহুল ফুটবল খেলত অদিতির স্কুলের পাশের মাঠে। ছোট থেকে রাহুলের পছন্দ ফুটবল। বাড়িতে বাবা ব্রাজিলের ভক্ত,রাহুলও তাই ব্রাজিলের সাপোর্টার। বাবা বলে – ফুটবল হল বডি কন্টাক্ট গেম, পায়ের কাজের ম্যাজিক, সমবেতভাবে বল তৈরি করা – ফুটবল জবরদস্ত খেলা! আর তার পাশে অদিতি, জিমন্যাস্টিকস করত। খুব ভালো করত।
আসলে রাহুল আর অদিতির মধ্যে একটা বড় ফারাক হল প্যাশন। রাহুল যা করে তা ওই একরকম অন্যের দেখে, খুব একটা নিজে থেকে তাগিদ অনুভব করার ভাব আসে না। কিছু একটা দেখল, লক্ষ্য করল, লোকজন মজে গেছে, ওরও করতে ইচ্ছে করল। একদিকে ভালো। খুব বেশী ভাবে না। সফলতা ওর মগজে ঢোকে না, বিফলতা হৃদয়ে আঘাত করে না।
অদিতি ঠিক উলটো। সব কিছুতে পারফেকশনিস্ট। দিন রাত পড়াশুনো করে বিষয়ের গভীরে ঢুকে যাওয়া, যে কোন কাজকে শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়া, আর সময়ের আর কথার দাম দেওয়া – এগুলো অদিতি ইন এ নাটশেল।
আসলে কি হয়, যতই টেকনোলজি বেড়ে চলুক, যতই কৃত্রিম মেধা এগিয়ে আসুক, একটা বেসিক জিনিস বদলায়নি। সেটা হল উদ্দেশ্য, বা একটা অভীষ্ট লক্ষ্য। অদিতি স্কুল ফাইনালে খুব ভালো ফল করে – পূর নিগম থেকে প্রাইজ পায়। সেই শংসাপত্রে লেখা ছিল – লক্ষ্য থেকে সে যেন বিচ্যুত না হয়।
রাহুল এখানে মিস করে যায়। ওর জীবনে লক্ষ্য বিশেষ কিছু নেই। ও পারফর্মার। ওকে কিছু একটা দিয়ে দেওয়া হলে করে দেবে। কিন্তু কোন কিছুকে নিজের মত করে নিয়ে অধ্যাবশায় দিয়ে তাকে শেষ বিন্দু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যওয়ার ক্ষমতা ওর মধ্যে ছিল না, আর এখনও আসেনি। এই নিয়েই ঠোকাঠুকি লাগে। দুজন একে অপরকে ভালবাসে খুব, মনের টান খুব। দেখতেও দুজনকেই ভীষণ সুন্দর, যার ফলে জুটি হিসেবে খুব মানায় দুজনকে। কিন্তু ওই, রাহুলের মনে কোথাও একটা দোলাচল, নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। মনে করে, অদিতি ওর থেকে বেটার।
অদিতিও রাহুলকে ভালবাসে। রাহুলের দিকে তাকিয়ে ওর মুখ শুকনো দেখলে বিচলিত হয়ে পড়ে। কাছে টেনে নিয়ে চুমু খেয়ে দেয়। মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। জিজ্ঞেস করে, কি হয়েছে। বোঝার চেষ্টা করে, রাহুল কি ভাবছে । কি করতে চায়। একটা স্বস্তির আশ্বাস, একটা হাল্কা ঠান্ডা বাতাসের পরশ – অদিতি চেষ্টা করে রাহুলকে সামলে নিতে।
কিন্তু, প্রেমের সম্পর্কে ঠিক ওরকম হয় না। একজন বাবা হয়ে গেল বা একজন মা হয়ে গেল – নাহ, সেক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। ইকুয়াল হতে হয়। তাছাড়া, সর্বদা একটা স্পার্ক থাকতে হয়।
কয়েকটা ঘটনার উদাহরণ দেওয়া যাক। একদিন দুজনে মিলে কলকাতার এক প্রসিদ্ধ মলে গেছে। কে এফ সি দুজনেই ভালবাসে। অদিতি বইয়ের স্টলে বই কিনে রাহুলকে বলল, “চল, গোটা কয়েক চিকেন উইংস খাই, তোরও তো ভালো লাগে।“
“হ্যাঁ, চল, তবে ওখানে খেয়ে নিয়ে একটু টম টেলর যাবো। একটা জিন্স কিনবো।“
অদিতি জানে, রাহুলের জিন্স পছন্দ, তবে ও এও জানে, অন্তত ২০টা মত দেখবে, ফাইনাল সেলেকশান আদৌ হবে কিনা ডাউট আছে।
যাই হোক, ওরা কে এফ সি-তে ঢুকল। যা অর্ডার দেওয়ার দিল। গল্প করছে, অদিতি নেক্সট কি করতে চায়। আদিবাসীদের নিয়ে কাজ করতে চায়। পুরুলিয়া অঞ্চল সম্বন্ধে খুব ইন্টারেস্টেড। ওই অঞ্চল সম্পর্কে অনেক মেটিরিয়াল পেয়েছে। আরও কালেক্ট করতে চায়। কীভাবে কাজটা নিয়ে অগ্রসর হবে সেই নিয়ে কথা বলতে শুরু করল। এখন মুশকিল হল, রাহুল এসব ভাবনা-চিন্তা থেকে বেশ কিছু দূরে। একটা কারণ অবশ্যই আছে, রাহুল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে, এখন চাকরি খুঁজছে। আর অদিতি পড়েছে সোশ্যাল সাইন্স, বা বলা ভালো, পড়েই চলেছে।
রাহুল শুনছিল, কিন্তু বিশেষ কিছু কন্ট্রিবিউট করতে পারছিল না। অদিতির বাচনভঙ্গি, তথ্য দিয়ে বিষয়কে বোঝানো, এক একটা সুত্রকে তুলে ধরা - এগুলো এত সুন্দর যে মুগ্ধ হয়ে শুনে যেতে হয়। রাহুল নিস্পলক দৃষ্টিতে শুনছিল। কিন্তু একটা জিনিস রাহুলকে সব সময় পিছিয়ে রাখে। ও ঠিক ইনপুট দিতে পারে না। শুরু করে কিছু বলার। একটু আধটু বলেও, মানে যেমন, “অদিতি, যা দিলি না, দারুণ লাগলো। চালিয়ে যা গুরু।“ ব্যাস, ওইটুকুই। অদিতি শোনে, কিন্তু কিছু এফেক্ট হয় না ওর ওপর।
কে এফ সি-তে বসে গল্প দিব্বি চলছিল, হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হল অদিতির কলেজের সিনিয়ার, অর্ক মিত্র। অদিতির প্রিয় অর্কদা। দেখামাত্র অদিতি তাকে ওদের কাছে আসতে বলল। রাহুল অপ্রস্তুত বোধ করল। কিন্তু প্রেমিকার আচরণে রাগ প্রকাশ করল না। অর্ক অদিতির সাথে জিও-পলিটিক্স নিয়ে আলোচনা শুরু করে দিল। অদিতি আর রাহুলের দিকে তাকালই না – মানে অন্তত ৪০ মিনিট! রাহুল কী করবে ভেবে পেল না। অনাহুতের মত বসে রইল – ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। তারপর আগন্তুক চলে যাওয়ার পরে অদিতিকে বলল, “চল, বেরিয়ে পড়ি।“ মলের বাইরে গিয়ে একটা অন্ধকার গলিতে অদিতিকে জড়িয়ে ধরে প্রাণপণে চুমু খেল। অদিতি বাধা দিল না। রাহুল তার প্রেমিক-স্টেটাস সেদিনের মত আবার ফিরে পেল।
আবার একদিন এমন হল, অদিতি ওর কলেজ ফেরত রাহুলের সাথে মেট্রো ধরেছে। অদিতির কি মনে হল, রাহুলকে বলে বসল, “চল, আজ এল্গিন রোডে নামি, নেতাজীর বাড়ি দেখতে যাই।“ রাহুলের আবার এল্গিন রোডের ওপরে একটা ধোকলার দোকান খুব পছন্দ ছিল। ও মনে মনে ভাবল, ভালোই হবে, রথ দেখা আর কলা বেচা দুটোই হবে।
অদিতি গটমট করে হেঁটে উঠে গেল এল্গিন রোডের সেই বিখ্যাত বাড়িতে যেখানে ইতিহাস রচিত হয়েছিল বেশ কয়েকবার। অদিতি নেতাজীকে মনেপ্রাণে ভালবাসে। কিন্তু সে এটাও জানে, অনেক বড় বড় মনিষী তৈরি হয়েছে মানব-ইতিহাসে, কিন্তু তাঁরা সবাই কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ ছিলেন।
“রাহুল, এই চিঠিটা দেখ। নেতাজী কতটা চিন্তিত থাকতেন, এটা পড়লেই বোঝা যায়। তিনি নিশ্চিত নন, যে পথে এগচ্ছেন সেটা ফলপ্রসূ হবে কি না।“ অদিতি রাহুলকে যুক্ত করতে চাইল ওর চিন্তাভাবনার মধ্যে। রাহুল ঠিক পারল না। অন্যদিকে একটা ছবির দিকে মন দিয়ে তাকিয়ে ছিল। মিলিটারি ড্রেসে নেতাজী। চমৎকার লাগছিল ওনাকে।
“চিঠি তুই পড়, আমি ওনাকে দেখি। কি গ্ল্যামার, কি স্মার্টনেস! কি প্রেজেন্স। চোখদুটো মোস্ট এক্সপ্রেসিভ!”
“এই জন্যে তোর সাথে আসি না এই সব জায়গায়। মানুষটাকে আমরা অনেকবার দেখেছি, কিন্তু মানুষটার ভিতরটা দেখতে পেয়েছি কি?” – অদিতির মুডটা একটু অফ হয়ে গেল।
যাক সেদিন মোটামুটি প্যাচ আপ সহজেই হয়ে গিয়েছিল। খুব বেশিদূর গড়ায় নি ঝামেলা। এর পরে অবশ্য অনেকবার ওরা একসাথে নেতাজী ভবনে গেছে, তবে ওই, প্রতিবারই অদিতি এক মেরুতে থাকত, রাহুল আরেক মেরুতে।
একবার গেল সিনেমা দেখতে, কিছু একটা হিন্দি ছবি হবে। সেখানেও আবার ওই একই সমস্যা – রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ, কোন দিক ঠিক, কোনটা বেঠিক, এই সব নিয়ে কথাবার্তা। রাহুলের বেশ মনে আছে, অদিতির মূল বক্তব্য ছিল, সিনেমা, থিয়েটার, গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, চিত্রনাট্য এমনকি, অভিনয়, চিত্রকলা এইসবের অন্যতম উদ্যেশ্য হওয়া উচিৎ, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসা। অদিতি কিছুতেই মেনে নিতে পারত না, এইসব বিভিন্ন কলাক্ষেত্রগুলির কাজ কেবলমাত্র বিনোদন প্রদান করা – না, এগুলি ভীষণ পাওয়ারফুল। সিনেমাটি ছিল, কোন এক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে। একটা সংলাপ ছিল এক নারী চরিত্রের মুখে, সে তার বন্ধুকে বলবে – তুই তোর স্বামীর কাছে ফিরে যা, ও ভুল করতেই পারে, ছেলেরা ওরকম করেই থাকে,একবার বিয়ে হয়ে গেলে, মেয়েদের শ্বশুরবাড়ির ডালভাতকে আপন করে নিতে হয়, একটু আধটু কাঁকড় থাকলেই বা কি, খুঁজে নিয়ে পাশে সরিয়ে নিতে হয়।
অদিতি হাফ-টাইমে রাহুলকে বলল, “চল, অন্য কোথাও যাই, এরকম রিগ্রেসিভ ফিল্ম দেখব না।”
রাহুল একবার হাল্কা কন্ঠে বলল অবশ্য, “লিড পেয়ারের রোমান্সটা দারুণ জমেছিল কিন্তু। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, ওটা ইগ্নোর মারতে হত। তুই বড্ড বেশী চিন্তা করিস। হবে কোন অন্য ভাষার ছবির রিমেক, অত বুঝতে পারেনি।“
“হম, বুঝতে না পেরে একটা ছবিতে ঢুকিয়ে দেবে? কত লোক দেখছে বলত?” – অদিতি রেগে গেলে ওকে আরও সুন্দর লাগে। মুখটা শুকিয়ে যায়, চোখগুলোতে একটু হাল্কা লাল আভা ফুটে ওঠে।
“তোর চিন্তা নেই, আমি ওরকম করবো না।” রাহুল কী বা বলত!
“ওপেন পার্টিতে অপমান করল, তারপর পাশে নিয়ে গিয়ে গালে থাপ্পড় মারল, দিস ইস ২০২৬!” – অদিতি ব্যাগ থেকে একটা চিপ্সের প্যাকেট বার করে কয়েকটা চিপ্স রুদ্ধশ্বাসে মুখে ঢোকাল। রাজ এবারেও ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। কাছে টেনে নিয়ে একটু আদর করার চেষ্টা করল। কিন্তু ওই, স্পার্ক ওয়াজ মিসিং।
২।
“ঠামা, তুমি জেগে আছো?”
“হ্যাঁ, আয়, বস। তোর খবর কি? শুনলাম, তুই চাকরি করতে বাইরে যেতে চাইছিস? তোর মা কাল বলছিল। খুব দূরে যাস না।“ – ঠাকুমা অনুরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাশভারি মানুষ। নিজে শিক্ষিকা ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর জীবনে চারটি কাজ। তাঁর সখের একমাত্র নাতির সাথে জীবন নিয়ে কথা বলা, তাঁর এক বুক-শেল্ফ ভর্তি বইগুলো ফিরে ফিরে পড়া, তাঁর গোপাল ঠাকুরের নিত্যসেবা করা আর বাড়ির বাগানের দেখাশোনা করা। এভিন্ন আরেকটি কাজও আছে – পাড়ার গরীব দুটি বাচ্চাকে পড়ান।
ঠামা ঠিক সে যুগের ঠাকুমাদের মত নয়। তাঁকে কেউ কখনো দেখেনি শাড়ি গোছাতে, জামা ইস্তিরি করতে, দিনরাত রান্নাঘরে বসে রান্না করে যেতে। তিনি সক্রিয় অবস্থায় সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন, পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে তাঁর নিজের স্কুলে তিনি সজাগতা তৈরির চেষ্টা করেছেন। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার হয়েছেন। সে স্কুলের মিড-ডে-মিল হোক, বা গরীবদের ঝুপড়ি উচ্ছেদের প্রশ্নই হোক। এলাকার মানুষ অনুরাধাদিকে জানত একজন সৎ, আদর্শবান এবং পরোপকারী মানুষ হিসেবে।
ওনার অনেক গুনের মধ্যে একটি হল উনি অসম্ভব সুন্দর গুছিয়ে কথা বলতে পারেন। অনেকটা অদিতির ছায়া। তাছাড়া, উনি খুব শৌখিন ওনার ঘরে একটা বড় বেড, পাশে একটা বৃহৎ বইয়ের আলমারি, একটি সোফা কাউচ, একটি টেবিল সামনে রাখা, আর ঘরের একটা দেওয়ালে তাক করে বানানো গোপালের থাকা-শোওয়া-খাওয়ার জায়গা।
রাহুল কাউচে বসল। ঠামা জিজ্ঞেস করল, “অদিতি কেমন আছে?”
রাহুল বলল, “খুব ভালো।” ও যখন ইমশনাল হয়ে পড়ে তখন ওর মিষ্টি গালদুটো লাল হয়ে যায়। মাথা নিচু করলে মনে হয় ওর দাদু, ঘাড়ের কাছটা বসানো অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠামা রাহুলের দিকে তাকিয়ে ঠিক ওরকমই ভাবলেন। খাটের এক প্রান্তে এসে স্নেহের নাতির মাথায় হাত বুলালেন।
“কি হয়েছে বল।”
“অদিতিকে ছাড়া আমি বাঁচবো না, ঠামা। কিন্তু ও আমাকে ইডিয়ট ভাবে, আমি, আমি, আমি সত্যিই তাই।” এইটুকু বলে ঠিক যেমন ছোটবেলায় করত, ঠিক ওইভাবে ঠামার কোলের ওপর মাথা দিয়ে হাউহাউ করে কাঁদতে লাগল।
“কাঁদলে চলবে কেন?” – ঠামা আরও বলল, “ফাইট করতে হবে, নিজের সাথে, নিজের ডেস্টিনির সাথে।”
অনুরাধা বলল, “সব যদি সহজে হয়ে যেতো তাহলে পরিশ্রম বলে কথাটা থাকতো না।”
“অদিতির ক্ষেত্রেও পরিশ্রম করতে হবে!”
“করতে হবে, একে অপরকে পুরোপুরি বুঝতে একটু পরিশ্রম তো করতে হবে।” ঠামা ওর মাথায় বুলাতে বুলাতে বলল।
“তোর দাদু আর আমি কত লড়াই করেছি ভাবতে পারবি না। অনেক ঝড়ঝাপটা, কত লোকের কত বিদ্রূপ, কত সমস্যা সব পেরিয়ে আমরা এক সাথে থেকেছি।”
(চলতে থাকবে)



