তিন তাল

১। চাঁদ পোড়া পাতা
পলাশ রঙ কি ছিল হাওয়ায় কিছু দিন
জ্যোৎস্নায় গড়ায় কাঠুরিয়া পথে
গিরিবর্তে ঝুলে আছে অভিজ্ঞান
ফাগুনে ফুলেল ছিল কিছুদিন
টিপা গাছের ডালের পাশে
আকাশের ফ্যাকাসে
ফলগুলি মোহ হয়ে ঝোলে
কোন লেশ নেই,
চাঁদ পোড়া পাতা ঝরে যাবে,
সময়ের কাছে ঋণ।
নূপুর ছিল না, ঝোরায় পা ফেলা চেটোয়
কুকার বন্দী মাংসের গন্ধ
চাহনিতে ঢেলেছে ঘৃতরাগ
রাস্তা থেমেছে শিকারের দৃশ্যে
আরও তীক্ষ্মতর ক্যানাইন…
ব্যাধের ঘাড়েও থাবার দাগ।
২। মর্মর শীতকাল
মর্মর শীতকাল নামছে পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায়
কনে আলো মুহূর্তে বাজছে সান্ধ্য শাঁখ
এবং প্রাচীন তক্ষক..
তার ডাক ইনসুইং হচ্ছে উপত্যকায়
কারু প্ররোচনায় বেয়ে নামছে প্রপাতস্থল।
অমল জানালার বাইরে অতল সিনেমায়,
অনুপল চুপ..
সুধার নূপুর ঝিঁঝিঁ
পথ বেঁকে গ্যাছে..
৩। পিয়া কি গলি..
ক্ষীণ হয়ে ফিরে যাচ্ছে আধ বোজা চুম্বন
দিনান্তে মাগরিব লাল হয়ে এসেছে আজানে
এই পর্বের মাউথ অর্গ্যানের রি… রি কম্পন
লন্ঠন বেড়ে ওঠে,বাসন্তী কঙ্কনের শব্দ ভারী হয়ে
হাওয়ায় মিলায়।
সায়ন্তনে ঠান্ডা হচ্ছে কাজ ফেরত লোহারা
ওদিকে আরা স্টেশনে শুয়ে আছে শ্রীকান্ত
একটি শ্বেত হাঁস তার শিয়রে, একটি শুকতারা
তবলচির পাউডার আঙুল
বাড়িয়ে বাড়িয়ে তুলছে মোচড়
জুনের পিপিলিকাটি কালের রূপক
একটি সবুজ পাতায় কামড়ে কামড়ে শিল্প
রাখছে..



